করোনা রুখতে ত্রিপুরা লক ডাউন ঘোষনা

পার্থ প্রতিম, ত্রিপুরা: করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ে উদ্বিগ্ন গোটা দেশ। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে লক ডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার মহাকরণে সাংবাদিক সম্মেলন করে ত্রিপুরা রাজ্যে লক ডাউনের ঘোষণা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। মঙ্গলবার দুপুর ২ টা থেকে রাজ্য হবে লক ডাউন। আগামি ৩১ মার্চ বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এই লক ডাউন প্রক্রিয়া চলবে। গত ১৩ মার্চ থেকে রাজ্য জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছিল। সমস্ত রাজ্য বাসীর প্রতি অনুরোধ ও দৃঢ়তার সাথে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব জানান ১৪৪ ধারার নিয়ম কানুন প্রত্যেককে মানতে হবে। রাস্তায় বিনা প্রয়োজনে না যাওয়া, একসাথে ৪ বা ৫ জন একত্রিত না হওয়া, বিনা প্রয়োজনে ঘর থেকে না বের হওয়া, নিজস্ব যানবাহন বিনা প্রয়োজনে না চালানোর নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা, যানবাহন কেবল মাত্র চলাচল করতে পারবে। সাধারনের জন্য যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে। একই সাথে সিমান্ত এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত গুলির প্রধান, উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতির চেয়্যারমযান, ভাইস চেয়ারম্যান, বিডিও ও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এই বিষয়ে নিশ্চিত করতে হবে যাতে কোন বাংলাদেশি নাগরিক অবৈধভাবে প্রবেশ করতে না পারে। অবৈধ কোন বাংলাদেশি নাগরিক পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই আদেশ পঞ্চায়েত সেক্রেটারি ও সংশ্লিষ্ট থানার ক্ষেত্রেও জারি থাকবে। অপরাধ ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করা হবে। কারোর বাড়িতে অবৈধ ভাবে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারিদের পাওয়া গেলে দ্রুত পুলিশের নজরে নিতে হবে। যারা এই বিষয়টি পুলিশের নজরে আনবে না, সেই সকল ব্যক্তি ও পরিবারের বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে করা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। ত্রিপুরা সরকার সিমান্ত এলাকায় কোন ধরনের অনুপ্রবেশ বড়ধাস্ত করবে না। ত্রিপুরাকে রক্ষা করার জন্য সরকার চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবে। কোন ধরনের আপোষ করা হবে না। সাংবাদিক সম্মেলনে এই কড়া বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।আগামি ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যের ৫ লক্ষ ৮৬ হাজার প্রাইওরিটি হাউস হোল্ড ও বিপিএল ভুক্তদের জন্য ১৫ দিনের বিনা মূলে রেশন প্রদানের ব্যবস্থা রাজ্য সরকার করছে।  প্রাইওরিটি পেনশন হোল্ডার দের এপ্রিল ও মে মাসের রেশন একসাথে দিয়ে দেওয়া হবে। একিসাথে বিনামূল্যে রেশন ব্যবস্থাও ১৫ জন্য অগ্রিম দিয়ে দেওয়া হবে। উজ্জলা যোজনার মাধ্যমে যাদের নাম তালিকাভুক্ত রয়েছে তাদের ১০০০ টাকা করে প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছে রাজ্য। করোনা আক্রান্তদের সমস্ত চিকিৎসা বয্যভার গ্রহণ করবে রাজ্য সরকার। কোন ধরনের ঘটনা ঘটলে ৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দেওয়া হবে। এর আওতায় আসবে স্বাস্থ্য কর্মী সহ অন্যান্য দপ্তরের কর্মীরা। টুয়েপ এবং রেগার বকেয়া অর্থ প্রদানের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নিকট আবেদন জানানো হয়েছে। পণ্য সামগ্রী বোঝাই ট্রাক যেন সহজ ভাবে আসতে পারে তার জন্য কেন্দ্রিয় ও আসাম সরকারকে আবেদন জানানো হয়েছে। সরকারী কর্মচারীর বিষয়ে রাজ্য সরকার একটি রোস্টার তৈরি করছে। অত্যাবশ্যকীয় পরিষেবা লক ডাউনের ক্ষেত্রে চালু থাকবে। তারমধ্যে উল্লেখ যোগ্য স্বাস্থ্য, আরক্ষা, আইনশৃঙ্খলা, ফল সবজি, মাছ মাংস বাজার খোলা থাকবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর দোকানও খোলা থাকবে। পানিয়্য জল, বিদ্যুৎ,দমকল, টেলিকম, ইন্টারনেট, ব্যাঙ্ক, এটিএম লক ডাউনের বাইরে থাকবে। কাপড়ের দোকান,যন্ত্রাংশের দোকান, বিউতি পাল্লার বন্ধ থাকবে। যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থাও বন্ধ থাকবে। রাজ্যের জনতার জন্য যা যা প্রয়োজন সমস্ত পরিষেবাই স্বাভাবিক থাকবে। তবে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দেন বাড়ি থেকে কাউকে বিনা প্রয়োজনে বের না হওয়ার জন্য। সকল রাজনৈতিক দল ও দপ্তর গুলিকে এক সাথে মিলে এই পরিস্থিতিতে কাজ করার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। লাভ লোকসানের অঙ্ক না কষে সহযোগিতার আহ্বান জানান তিনি। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কোন মানুষের প্রান হানি না ঘটুক এইটা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। তারজন্য এইধরনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ কড়া হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব ও স্বচ্ছতার মাধ্যমে করোনা সংক্রমণ রোধ কড়া সম্ভব। তাই অযথা গুজব এবং আতঙ্ক না ছড়িয়ে সঠিক নির্দেশিকা মেনে চলার বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব। যারা এই ধরনের অপপ্রচার করছে তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিতে আরক্ষা প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সাথে কালো বাজারি যারা করছে তাদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণেরও হুশিয়ারি দেন।